কবিতা
শহর ঘুমালে যে আলো জ্বলে

দিনের ভিড় কমে গেলে শহরটা অন্যরকম হয়ে যায়। শব্দগুলো নরম হয়, জানালার আলো দূর থেকে একে অন্যকে চিনে নেয়, আর মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কথাগুলো একটু একটু করে জেগে ওঠে। সেই নীরব শহরকে ঘিরেই এই কবিতা।

শহর ঘুমালে যে আলো জ্বলে,
সে আলো রাস্তার বাতি নয়—
কারও অপেক্ষার জানালা,
কারও না-পাঠানো চিঠির ভাঁজে
থেকে যাওয়া মৃদু হলুদ রং।

রাত গভীর হলে ছাদের কিনারায়
বাতাস এসে নাম ধরে ডাকে,
যে নাম দিনের ভিড়ে হারিয়ে যায়,
সে নাম তখন খুব কাছে বসে
চুপচাপ হাত রাখে কাঁধে।

একটি রিকশা দূরে মিলিয়ে যায়,
একটি কুকুর রাস্তা পেরোয় ধীরে,
একটি পুরোনো গান কারও ঘরে
অর্ধেক বাজে, অর্ধেক থেমে থাকে—
তবু শহর সবটুকুই শুনে ফেলে।

যারা সারাদিন শক্ত মুখে থাকে,
রাতে তারাও মানুষ হয়ে ওঠে;
কেউ পুরোনো ছবি দেখে,
কেউ মায়ের কথা ভাবে,
কেউ ভবিষ্যৎকে একটু কম ভয় পায়।

শহর ঘুমালে যে আলো জ্বলে,
সে আলো আসলে মানুষেরই—
ভালো থাকার ছোট্ট ইচ্ছা,
ফিরে আসার নীরব প্রতিশ্রুতি,
আর ভোর পর্যন্ত টিকে থাকা আশা।

মন্তব্য করুন

ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো পূরণ করুন।

WhatsApp